ইসলামে নারীর মর্যাদা কোন পর্যায়ে?

ইসলামে নারীর মর্যাদা কোন পর্যায়ে?
– আসুন জেনে নেই কিছু অজানা তথ্যঃ

১। সুরাহ আহযাব এর পঞ্চম আয়াতের তাফসীর এবং তার থেকে উদ্ভূত শরীয়াহ আইন মতে, পিতৃপ্রদত্ত নাম পরিবর্তন করা শরিয়াহ সম্মত নয়। অতএব, বিবাহের পরে মেয়েরা তাঁদের পিতৃপ্রদত্ত নাম পরিবর্তন করে নিজের নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করা জায়েজ নয়। তবে যদি পিতৃপ্রদত্ত নামে কুফরি কিংবা শিরকের আলামত থেকে থাকে তাহলে আকীকা করে পুনরায় নাম রাখা কিংবা সংশোধন করা জায়েজ। উদাহরণঃ একজন মেয়ের নাম লতিফা সুলতানা। তিনি মোবারক আলী কে বিয়ে করে নাম পরিবর্তন করে লতিফা মোবারক কিংবা লতিফা আলী হলেন, এটা ইসলামে জায়েজ নেই। লতিফা সুলতানা আমৃত্যু লতিফা সুলতানা থাকবেন। ইসলাম কারো পরিচয় ছিনিয়ে নেয়া সমর্থন করে না। 

২। “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি সর্বোত্তম, যিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে সর্বোত্তম”। এই সহিহ হাদিসটি দ্বারা প্রমাণিত হয়, একজন পুরুষের উত্তম অধমের মাপকাঠি তাঁর সম্পদ, জ্ঞান, শক্তি, সামর্থ্য, ইত্যাদি বস্তুতে নেই। বরং তাঁর স্ত্রীর সার্টিফিকেটই নির্ণয় করবে একজন পুরুষ আসলে কত বড় ওস্তাদ। এমন সুন্দর ক্ষমতা অন্য কোন ধর্ম কি স্ত্রীদের দিয়েছে?

৩। সহিহ আল বুখারি তে বর্ণীত একটি হাদিস থেকে জানা যায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাঃ) অধিকার আদায়ের পর মায়ের অধিকার আদায় করতে হবে। একজন সাহাবী যখন জানতে চাইলেন যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাঃ) অধিকার আদায়ের পর কার অধিকার সবচেয়ে বেশী, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তিনবার বললেন মায়ের অধিকার আদায়ের কথা। চতুর্থ বারে তিনি বললেন বাবার কথা। আর খরচের বেলায় সবচেয়ে বেশী অধিকার স্ত্রীর। যদি কোন ব্যাক্তির কাছে এমন পরিমাণ অর্থ থেকে থাকে যা দিয়ে শুধু একজনের ভরণপোষণ হয়, তবে তা স্ত্রীর জন্য খরচ করতে হবে। তারপর যদি কিছু থাকে তা সন্তানের, তারপর যদি কিছু থাকে তবে তা মা বাবার, তারপর যদি কিছু থাকে তবে তা ভাইবোন, প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজনের, তারপর যদি কিছু থাকে তবে তা দানের জন্য কিংবা সঞ্চয়ের জন্য।

৪। “হে ইমানদারগণ, বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহণ করা তোমাদের জন্য হালাল নয়, এবং তাদেরকে আটকে রেখোনা, যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তাঁর কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে। নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর। অতঃপর তোমরা যদি (কোন কারণে) তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে তোমরা হয়ত এমন কিছুকে অপছন্দ করেছ যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।” সুরাহ নিসা, আয়াত ১৯।
কি বোঝা গেল? প্রথমত, নারীদের সম্পদ জোর করে ভোগ করা হারাম। দ্বিতীয়ত, তাঁদের সাথে ভাল ব্যাবহার করা বাধ্যতামূলক, তৃতীয়ত, নারীদের মধ্যে আল্লাহ পুরুষদের জন্য এমন কিছু ভাল ব্যাপার রেখেছেন, যেটা পুরুষ মানুষের সম্ভবত অজানা। smile emoticon

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *