ব্যাংকক সই ৩, আমি এবং রিয়াজ ভাই

অনেকেই ব্যাংকক ব্যাংকক করে অস্থির হয়ে যান। আমি এখানে এসে যা বুঝলাম তা হল, যারা ঢাকার মত ব্যায়বহুল শহরেরও যারা তাঁদের অর্থ ব্যয় করে শেষ করতে পারছেন না, তাঁদের অর্থ ব্যয় করার শেষ আশ্রয় হল ব্যাংকক। এখানে অর্থের বিনিময়ে মল পর্যন্ত কিনতে পাওয়া যায়। (যদিও তা খেলনার, তবে এর আকার ধরন ও গন্ধ আপনাকে তা বিশ্বাস করতে দিতে চাইবে না।)। শহরটা এখনো ঘুরে দেখিনি। হোটেল থেকে বেরুতে ইচ্ছে করে না।
গতকাল ডাক্তারের সাথে কথা সেরে গিয়েছিলাম আমার পুরনো কলিগ রিয়াজ রহমানের সাথে দেখা করতে। উনি কিছুটা জায়গা ঘুরিয়ে দেখালেন। বলাই বাহুল্য ডিনারটাও উনি করালেন। আমি রাসেল ভাইয়ের হোটেল ছাড়া অন্য কোথাও হালাল কিছু খুঁজে পাইনি বলাতে উনি আমাকে নিয়ে গেলেন একটা আরব অধ্যুষিত এলাকায় যার নাম সই থ্রি। ওখানে দেখলাম ভরপুর আরব লোকেরা রাস্তায় অত্যন্ত ধীর গতিতে হাঁটছে। রাস্তার দুপাশে অসংখ্য দোকান। কেউ কেউ ফুটপাথে দাঁড়িয়ে ফেরী করছে। তবে সব দোকানদারের একটা বিষয়ে প্রচণ্ড মিল। এরা সবাই সব কিছুর দাম প্রায় তিন চারগুণ বেশি হাঁকাচ্ছে। এরই মধ্যে উনি একটা রেস্টুরেন্টে আমাকে নিয়ে গেলেন যেখানে যাবতীয় আরবরা খানাদানা করছে। উনি বললেন, “আশিক ভাই, ব্যাংককে কখনো আপনার যদি নিশ্চিন্ত হালাল খাবার খেতে হয়, এখানে চলে আসবেন।” আমি বললাম “ঠিক আছে”। এরপরে উনি আপ্যায়নের জন্য অস্থির হয়ে পড়লেন। ভরপুর খাবার অর্ডার করে টেবিল ভরিয়ে ফেললেন। বারংবার নিষেধ করা সত্ত্বেও “আশিক ভাই, একটা টার্কিশ কাবাব খান, এইটা সেইরকম মজা” বলে ফাইনাল অর্ডার দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, ভরপেট খাওয়ার পরে বিল আসলো। উনি বেশ আনন্দের সাথেই বিল দিলেন এবং আমাকে মানিব্যাগটা বেরও করতে দিলেন না। শুধু বিলটা দেখে আমি মনে মনে ভাবলাম “রিয়াজ ভাই, যত হালালই হোক, এইখানে আমি আর আসতে চাই না। গ্রামীনফোনের চাকরিটা আমি ছেড়ে দিয়েছি। ঃ) “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *