সন্তানের সাথে আলাপ করুন – সে কোন দিকে পা বাড়াচ্ছে?

আপনার সন্তান যদি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার সাথে আলাপ কতে চায়, তাহলে দয়া করে তাকে বাধা দেবেন না। কারণ আলাপ করার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে আছে। অনেক বাবা মা আছেন যারা এই বিষয় গুলি নিয়ে সন্তানদের আলাপচারিতা ভয় পেয়ে থাকেন। এই ভয় পাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। অনেকেই সন্তানদের বলেন “খবরদার এইসব নিয়ে কারো সাথে কোনো আলাপ করবি না। চুপচাপ থাকবি। কারো সাথে তর্ক করবি না।” এই ধরনের বাবা মা দের বলছি, এতে আপনি আপনার সন্তানকে ঠেলে দিচ্ছেন আরো বেশি বেশি বাইরে আলাপ করার জন্য। আপনি আপনার সন্তানের সাথে কথা বলুন। তার কথা শুনুন, তাকে প্রাণ খুলে তার মতামত ব্যাক্ত করতে দিন। কারণ আপনি তাকে আটকাতে পারবেন না। আপনি তার সাথে আলাপ না করলে সে বাইরে আলাপ করবেই। আপনি তাকে বাইরে বেরুতে না দিলে সে ব্লগিং করবে, ফেসবুকিং করবে। তার কন্ঠ রোধ করা অসম্ভব। অতএব, বুদ্ধিমান বাবা মা হলে আপনি নিজেই তার সাথে আলাপ করবেন। তার কচি মনের উদ্বিগ্ন চিন্তা চেতনাকে আপনার বিদগ্ধ মতামত দিয়ে আরো পরিপক্ক হতে সাহায্য করবেন। নতুবা আপনি তাকে আরো বেশি মাত্রায় বিপদের দিকে ঠেলে দেবার জন্য দায়ী থাকবেন। সব সময় মনে রাখবেন,শিশু কিশোররা জীবনের প্রায় সব দিকগুলোকেই আবেগ দিয়ে বিচার করে। তার আবেগপূর্ণ মতামত গুলো কে পরিপক্ক হতে সহায়তা করা বাবা মা হিসেবে আপনার দায়িত্ব। খেয়াল রাখবেন, আপনার উদ্বেগ যেন আপনার সন্তানের ভুল পথে এগিয়ে যাবার মূল কারণ না হয়ে যায়।  তাকে সময় দিন। প্রচুর সময় দিন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে শেখান। তাকে বড় হতে দিন। সর্বপরি, তার সাথে আলাপ করুন। খোলাখুলি কথা বলুন। তাকে শুধু আপনার সন্তান নয়, বন্ধু ভাবুন। আপনি তাকে বন্ধু না ভাবলে, সে কি করে আপনাকে বন্ধু ভাববে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *