হাজ্জ এর প্রস্তুতি – ১

অনেকদিন ধরেই এই বিষয়ে কিছু লেখার জন্য আমাকে অনেকেই বলে আসছেন। কিন্তু কি লিখব কিভাবে লিখব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এখন ভাবছি অল্প অল্প যা মাথায় আসে তাই লিখে রাখব। পরে সময় সুযোগ হলে সংকলন করা যাবে। আজকে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেব, ইন-শা-আল্লাহ .

১) মক্কা মদিনায় বাতাসে আদ্রতা কম, তাই ত্বক ফাটে খুব বেশি। এই ফাটা ত্বকে প্রচুর হাটতে হবে, অতএব, পা ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। যদি আরামে আপনার হাজ্জ সম্পাদন করতে চান তাহলে নিজের সাথে একটি ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম নিয়ে যাবেন (ভেসলিন টোটাল ময়েশ্চার একটা ভালো অপশন) এবং প্রতিরাতে শোবার আগে পা এর তালু ধুয়ে মুছে ক্রিম ব্যাবহার করবেন। ইন-শা-আল্লাহ পায়ের তালুফাটা যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকবেন।

২) আমাদের যাদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ থেকে ৮ কিলো রাস্তা হাটার অভ্যেস নেই, তারা অবশ্যই সাথে করে পেট্রোলিয়াম জেলী নিয়ে যাবেন। সুগন্ধিমুক্ত ভেসলিন নিতে পারেন, কারণ ইহরাম অবস্থায় কোনো সুগন্ধি ব্যাবহার করা যায় না। দুই রানের কুচকিতে পর্যাপ্ত পরিমান ভেসলিন মাখিয়ে নেবেন লম্বা রাস্তা হাটার আগে। হজ এর মূল ৫ দিন আপনাকে ৩৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা হাটতে হতে পারে। এই কাজটুকু না করলে হাটতে হাটতে চামড়া ছিলে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। যার ফলে আপনি মিনা থেকে জামারায় যাওয়া, ফরজ তাওয়াফ করা, সায়ী করা, মক্কা থেকে মিনায় ফেরা,  ইত্যাদি কাজগুলো সুষ্ঠ ভাবে শেষ করতে পারবেন না।

৩) অযথা গুড় মুড়ি নেবেন না। এগুলো খাওয়া হয় না। আলহামদুলিল্লাহ এখন হজ এর সময়টা চারিদিকে এত বেশি খাবারের ছড়াছড়ি থাকে যে, ওই গুড়মুড়ি শেষ পর্যন্ত আর কারোই খাওয়া হয় না। তবে আপনার যদি এজেন্সির খাবার সরবরাহ না থাকে, এবং যদি কেনা খাবারে অরুচি থাকে, তাহলে শুধু হজ এর ৫ দিন এর জন্য সামান্য শুকনা খাবার সাথে নিতে পারেন। বাকি পুরো সময় ইন-শা-আল্লাহ গুড় মুড়ির কোনো প্রয়োজন হবে না।

৪) ওখানে আমদের মত ধুলা কাঁদা নেই। তাই কাপড় সহজে ময়লা হয় না। আদ্রতা নেই বলে ঘামও খুব কম হয়। আর প্রচন্ড রোদ থাকে বলে ১ ঘন্টায় কাপড় শুকিয়ে যায়। নিশ্চই বুঝে ফেলেছেন কি বলতে চাইছি। জি, বেশি কাপড় এর বোঝা নেবেন না। শুধু কাপড় শুকোবার জন্য কয়েকটা ক্লিপ আর একটা নাইলনের রশি নেবেন। হোটেল বা বাসা, যেখানেই আপনার এজেন্সি আপনাকে রাখুক, ছাদে কাপড় শুকোবার সুযোগ পাবেন ইন-শা-আল্লাহ। কয়েক সেট কাপড় ধুয়ে ধুয়ে ব্যাবহার করবেন।

৫) মিনা কিংবা আরাফায় যাবার সময় যত হালকা থাকা যায় তত ভালো। বলে রাখি, টোটাল বোঝা ৩ কেজির বেশি না হওয়াই ভালো। কারণ এটা কাঁধে নিয়েই আপনাকে ৩৫-৫০ কিলোমিটার রাস্তা হাটতে হতে পারে।

৬) আরাফায় বিদ্যুত নেই। মিনায় আছে, তবে শত শত মানুষের সাথে যুদ্ধ করে আপনার মোবাইল চার্জ দেবার সুযোগ নাও পেতে পারেন। সুতরাং, এমন মোবাইল সেট সাথে নেবেন যেটা এক সপ্তাহ চার্জ না দিলেও আরামসে চলে, যেমন সিম্ফনি 🙂
আজ এ পর্যন্তই থাকুক। পরে আবার লিখব ইন-শা-আল্লাহ।

3 thoughts on “হাজ্জ এর প্রস্তুতি – ১”

  1. Many Thanks, Ashique bhai. কিন্তু আমার মনে হয় আপনি যদি আমাদের জানাতেন যারা যাওয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে, অর্থাৎ পুরোপুরি না হলেও মনস্থির করেছে হজ সম্পাদনের ব্যাপারে তাদের জন্য কিছু লিখলে খুব ভাল হত। যেমন, হজে যাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক প্রস্তুতিটা কিভাবে শুরু করা যায়, হজের স্থায়িত্বকাল – কত সময় থাকতে হতে পারে, হজ এজেন্সি গুলো কেমন, কি কি সার্ভিস তারা আমাদের দিতে পারবে বা পারবে না এই জিনিসগুলো নিয়ে প্রথমে একটু বললে খুব উপকৃত হতাম !

    1. ইন-শা-আল্লাহ বলব। লেখা ড্রাফট করছি। দোআ করবেন যেন তাড়াতাড়ি পোস্ট করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *