হজ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে গিয়েছে। আমার পরিচতজনের মধ্যে এবারও অনেকেই হজ করবেন ইনশাল্লাহ। কেউ কেউ এরই মধ্যে চলে গিয়েছেন, আর কেউ কেউ যাবেন। আপনাদের সবার জন্য হজ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছি।

১। সারা দুনিয়া থেকে লক্ষ লক্ষ হাজী সাহেবগণ মক্কা মদিনায় যাবেন। তাঁদের কারো কাশি থাকবে, কারো সর্দি থাকবে, কারো থাকবে জর  ঠান্ডা ইত্যাদি। এই ধরনের অসুখ গুলো খুব সহজে ছড়ায়। সাধারণত হাতের ছোয়ায় ও বাতাসের মাধ্যমে এদের জীবানু ছড়িয়ে থাকে। তাই খুব সাবধান থাকবেন। কারণ ওখানে একবার ঠান্ডা লেগে গেলে সহজে সারতে চায় না।
ক) ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা জুস খাবেন না। জমজমের পানি যেসব পাত্রে রাখা থাকে সেগুলোর কয়েকটি তে  “নট কোল্ড” লেখা থাকে। ওই পাত্রগুলো থেকে জমজমের পানি পান করবেন।
খ) সাথে হ্যান্ড সানিটাইজার রাখুন। ঢাকার যেকোনো সুপার সপ এ পাওয়া যায়। বাইরে থাকলে কিছু খাওয়ার পূর্বে হাত ধুয়ে নিন। না পারলে অন্তত হ্যান্ড সানিটাইজার ব্যাবহার করুন।

২। হজ একটি অতন্ত পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত। প্রচুর পানি পান করবেন। প্রচুর হাটাহাটি করতে হবে বলে যথেষ্ট ক্ষুধাও পেতে পারে। সাথে সবসময় কয়েকটি খেজুর রাখুন। খেজুর একটি চমত্কার শক্তিবর্ধক ফল। দুগ্ধজাত খাবারে অসুবিধে না থাকলে প্রচুর “লাবান” খেতে পারেন। লাবান একটি পানীয়, খেতে অনেকটা আমাদের দেশের মাঠার মত। হজের মূল দিন গুলোতে অনেকেই বাথরুমের ভয়ে খাবার কম খান। মনে রাখবেন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনার হজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। তাই বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবেন এবং আঁশ জাতীয় খাবার কম খাবন। এতে আপনার শরীরে শক্তি থাকবে, তবে বাথরুম এর প্রয়োজন কম হবে।

৩। আপনার পাসপোর্ট জেদ্দা বিমান বন্দর থেকে আপনার মুয়াল্লিম রেখে দেবেন, এবং যেদিন আপনি ফিরবেন, সেদিন জেদ্দা বিমান বন্দরেই আপনার পাসপোর্ট আপনাকে ফিরিয়ে দেআ হবে। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

৪। আপনাকে একটি আই ডি কার্ড দেয়া হবে। এটি দয়া করে গলা থেকে খুলবেন না। কারণ মনে রাখবেন, হায়াত মউত আল্লাহর হাতে। আপনার যদি পথেঘাটে কোথাও মৃত্যু হয়, বা অসুস্থ হয়ে পরেন, কিংবা রারিয়ে যান, তাহলে এই আই ডি কার্ড ছাড়া আপনাকে, কিংবা আপনার লাশকে জায়গামত পৌছে দেওয়া অসম্ভব। এবং, জি, বাথরুমে গেলেও এই কার্ড গলায় রাখবেন। কারণ ওখানে আপনার হোটেল কিংবা বাসা ছাড়া অন্য যেখানেই যাবেন, বাথরুম মানেই শতশত টয়লেট কেবিন এক লাইনে।

৫। ওখানে বাতাসের আর্দ্রতা কম, তাই পা ফাটে বেশি। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে তাই পায়ে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম মাখিয়ে নেবেন। মনে রাখবেন: পা গেল, তো হজ ও অর্ধেক গেল।

আশা করি টিপস গুলো কাজে লাগবে। এবং আশা করি আমাদের সবাইকে আপনার দোয়ায় রাখবেন।

One thought on “হজ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *